thirty3, না মিউজিক ক্যাফে?

শুধুমাত্র প্লেটে ছুঁরি, কাঁটা চামচের শব্দ আর নিজেদের মধ্যে গল্প করার বাইরে গিয়ে যদি সুরের মূর্চ্ছনায় ভেসে যেতে যেতে ডিনারটা সেরে নেয়া যায়, সম্ভবত অনেকের কাছেই এ প্রস্তাব লোভনীয় বলে মনে হবে। নাগরিক জীবনের যান্ত্রিকতা থেকে সাময়িক মুক্তি আর প্রিয় মানুষের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য সঙ্গীতের সুর আর ভোজন আয়োজনের এই বৈচিত্র্যময় সমন্বয় ঘটিয়ে বেশ রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে রাজধানীর ৩, নিউ বেইলি রোডের thirty3resturant.

গান বাজনা চলুক, খাওয়া দাওয়া চলুক, খেয়ে দেয়ে সবাই হাসিমুখে বাড়ি ফিরুক, কোথাও তো কারো সমস্যা হবার কথা নয়!
সত্যি কথা বলতে কি, সমস্যা একদমই নেই।
যত সমস্যা সেই বেরসিক ভ্যাট এ। এই ভ্যাট কিন্তু গান বাজনার তাল কাটাতেও দ্বিধা করেনা।

এই থার্টি থ্রি রেস্টুরেন্ট (সাবেক মিউজিক ক্যাফে লি:) দীর্ঘ দিন ধরে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে যাচ্ছে। ভ্যাট গোয়েন্দার একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে উপস্থিত হয়ে ঘটনার সত্যতা দেখতে পান। রেস্টুরেন্টটিতে ব্যবহৃত POS সফটওয়্যারটির তথ্য যাচাই করে দেখা যায় যা দাখিলপত্রের তথ্যের সাথে মেলানো। সন্দেহের শুরুটা এখানেই। কারণ প্রতিষ্ঠানটির অবয়ব, আয়োজনের সংগে এই তথ্য অসংগতিপূর্ণ।
শুরু হল রেস্টুরেন্টটির ভেতর তল্লাশি। উদ্ধার হল কিছু বাণিজ্যিক দলিল। সেই দলিল তাৎক্ষণিক পর্যবেক্ষণে গোয়ান্দেদের চোখে ধরা পড়ে একই বিল্ডিং এর ৭ম তলায় একটি ফ্লোরের বিপরীতে মাসিক ৩০ হাজার টাকা ভাড়া পরিশোধ করা হচ্ছে। এ সম্পর্কে ম্যানেজারকে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান সেখানে কর্মচারিদের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে।

তা শুনে গোয়েন্দাদের খুব ইচ্ছে করল সেই থাকার জায়গাটা একটু ঘুরে আসবে। কিন্তু ইচ্ছে করলেই কি আর সাথে সাথে সব ইচ্ছে পূরণ হয় নাকি! একটু কাট খড় পোড়াতে হবে না? বিল্ডিং এর দারোয়ান কিছুতেই আবাসিক এরিয়া বলে উপরে যেতে দেবে না, নিজেদের পরিচয় দেবার পরেও না। তাই তাদের সাথে একরকমের ধাক্কা ধাক্কির “কাঠ খড়” পুড়িয়ে ভ্যাট গোয়েন্দাদের সেই সাত তলার ফ্লোরে যাবার ইচ্ছে পূরণ করতে হল।

ফ্লোরে ঢুকেই মনে হল সেখানে অলিম্পিকের ১০০ মিটার দৌড়ের প্রস্তুতি চলছে। কয়েক সেকেন্ডেই সেই ভুল ভাঙল। আসলে দৌড়াদৌড়িটা তো চলছে হাতে কাগজপত্র নিয়ে, কোথায় কি লুকিয়ে ফেলে গোয়েন্দাদের চোখে ধূলো দেয়া যায়। তল্লাশি চালিয়ে দেখা গেল পুরো ফ্লোরটি রেস্টুরেন্ট এর পুরনো মাল পত্র, বিভিন্ন ভাঙাচোরা জিনিস, ফাইল পত্র, মূসক সংক্রান্ত দলিলাদি, কম্পিউটার এসব দিয়ে ভর্তি। এর মধ্যেই কম্পউটার এর সিপিইউটি সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

কিন্তু ধুলোর রাজ্য থেকে বস্তা বস্তা লুকোনো কাগজপত্র খুঁজে বের করা কি সহজ কথা! প্রায় ঘন্টাখানেক শারিরীক কসরত এবং মানসিক পরিশ্রমের পরে ধুলো মেখে ফর্সা গোয়েন্দা দল উদ্ধার করতে সক্ষম হলো সেই কাঙ্খিত বস্তুর। জব্দ করে নিয়ে আসা হল রাজস্ব ফাঁকির কাগজপত্র।
সেখানে দেখা গেল মিউজিক ক্যাফে নামে রেজিঃ নিয়ে থার্টিথ্রির নামে ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালাত মূসক ফাঁকি দেয়ার জন্য। তারা আবার জুন ২০১৫ তে ভোল পাল্টে মিউজিক ক্যাফে রেজিঃ বাতিল করে নতুন করে থার্টিথ্রির নামে রেজিঃ নিয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছে।

২০১১ থেকে মোট ৪০ মাসের কাগজ উদ্ধার করে দেখা যায় এ সময়ে ফাঁকি দেয়া রাজস্বের পরিমান ১ কোটি ৩৯ লক্ষ ৭২ হাজার টাকা এবং সুদসহ ২ কোটি ১৮ লক্ষ ৮৮ হাজার টাকা।

মূসক ফাঁকিবাজ সাবধান….. ভ্যাট ফাঁকিরোধে সদা জাগ্রত – ভ্যাট গোয়েন্দা।

www.facebook.com/vatintelligencebd

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2 + ten =