Savings Instrument এর বিপরীতে প্রাপ্ত সুদ রিটার্নে প্রদর্শন সংক্রান্ত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ব্যাখ্যা

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড
রাজস্ব ভবন, সেগুনবাগিচা, ঢাকা-১০০০।
[কর নীতি শাখা]

নথি নং- ০৮.০১.০০০০.০৩০.০৭.০০৮.২১৫/১৩১                  তারিখ:  ৩০ ভাদ্র ১৪২২ বঙ্গাব্দ, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫ খ্রিঃ

 

বিষয়ঃ জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর কর্তৃক ইস্যুকৃত savings instruments এর বিপরীতে প্রাপ্ত সুদ আয় আয়কর রিটার্নে প্রদর্শন সংক্রান্ত।

অর্থ আইন, ২০১৫ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর 82C ধারায় পরিবর্তন এনে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর কর্তৃক ইস্যুকৃত যে কোন savings instruments এর সুদ আয়ের উপর উৎসে কর্তিত কর চূড়ান্ত করদায় হিসেবে গণ্য করার বিধান করা হয়েছে। savings instruments এর সুদ আয় সুনির্দিষ্ট ও প্রামাণিক দলিলাদি দ্বারা সমর্থিত। এরূপ সুদ আয় আয়কর রিটার্নে কিভাবে প্রদর্শিত হবে সে বিষয়ে বিভিন্ন মহলের জিজ্ঞাসা রয়েছে মর্মে অবহিত হওয়ায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এ মর্মে স্পষ্টীকরণ করেছে যে, বর্ণিত savings instruments এর উপর প্রাপ্ত গ্রস সুদ আয়কর রিটার্নের আয়ের বিবরণী অংশে নিরাপত্তা জামানতের উপর সুদ অংশে প্রদর্শন করতে হবে, যা মোট আয় নিরূপণে অন্তর্ভূক্ত হবে। যেহেতু এরূপ সুদ আয়ের উপর উৎসে কর্তিত কর উক্ত সুদ আয়ের চুড়ান্ত করদায় পরিশোধ হিসেবে গণ্য হবে, তাই করদায় পরিগণনায় প্রথমে উক্ত সুদ আয় ব্যতিত অপরাপর খাতের করযোগ্য আয়ের উপর প্রযোজ্য আয়করের হিসাব করতে হবে। এরপর সে অংকের সাথে savings instruments এর সুদের উপর কর্তিত কর যোগ করে ‘মোট আয়ের উপর আরোপযোগ্য আয়কর’ এর পরিমাণ নির্ণিত হবে।

উদাহরণ হিসেবে, সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ ধেকে ১ জুলাই ২০১৪ তারিখে করদাতা মিজ্ সেহেলা সিদ্দিকার গ্রস সুদ আয় হয়েছে ৩,০০,০০০/- টাকা। এর উপর ৫% হারে উৎস কর বাবদ ১৫,০০০/- টাকা কর্তন করে অবশিষ্ট ২,৮৫,০০০/- টাকা করদাতাকে পরিশোধ করা হয়েছে। করদাতার ২০১৪-১৫ আয় বছরে বেতনাদি খাতে করযোগ্য আয়ের পরিমাণ ছিল ৪,০০,০০০/- টাকা এবং গৃহ সম্পত্তি খাতে আয়ের পরিমাণ ছিল ১,৮০,০০০/- টাকা। মিজ্ সেহেলা সিদ্দিকা ১ জুলাই – ৩০ জুন সময়ের আয় বছর অনুসরন করেন। আলোচ্য সময়ে করদাতার রেয়াতযোগ্য বিনিয়োগের পরিমান ছিল ২,০০,০০০/- টাকা।

বর্ণিত ক্ষেত্রে সঞ্চয়পত্রের সুদ ব্যতিত করদাতা মিজ্ সেহেলা সিদ্দিকার অপরাপর খাতের আয়ের পরিমাণ ৫,৮০,০০০/- টাকা এবং তার উপর প্রযোজ্য করের পরিমান ২৮,০০০/- টাকা। সঞ্চয়পত্রের সুদ খাতে উৎস কর্তিত করের পরিমাণ ১৫,০০০/- টাকা। ফলে করদাতার করদায়ের পরিমাণ হবে (২৮০০০+১৫০০০)= ৪৩,০০০ টাকা, যা আয়কর রিটার্নে নিম্নরূপে প্রদর্শিত হবে:

 

করদাতার আয় বিবরণী
৩০.০৬.২০১৫ তারিখে সমাপ্ত আয় বৎসরের আয়ের বিবরণী

টাকার পরিমাণ টাকার পরিমাণ
১। বেতনাদি: ধারা ২১ অনুযায়ী (তফসিল ১ অনুসারে) ৪,০০,০০০
২। নিরাপত্তা জামানতের উপর সুদ: ধারা ২২ অনুযায়ী
(সঞ্চয়পত্রের গ্রস সুদ)
৩,০০,০০০
৩। গৃহ সম্পত্তির আয়: ধারা ২৪ অনুযায়ী (তফসিল ২ অনুসারে) ১,৮০,০০০
১০। মোট আয় (ক্রমিক ১ হতে ৯) ৮,৮০,০০০
১১। বিদেশ থেকে আয় ৮,৮০,০০০
১৩। মোট আয়ের উপর আরোপযোগ্য আয়কর
(চুড়ান্ত করদায়ের অংকসহ)

 

সঞ্চয়পত্রের সুদ আয়ের উপর উৎসে কর্তিত কর এ খাতের আয়ের চূড়ান্ত করদায় বিধায় আয়কর রেয়াতের জন্য মোট আয়ের ৩০% (বর্তমানে প্রযোজ্য) অংক নিরূপণে সঞ্চয়পত্রের সুদ আয় অন্তর্ভুক্ত হবে না। উদাহরণে উল্লিখিত করদাতা মিজ্ সেহেলা সিদ্দিকার ক্ষেত্রে আয়কর রেয়াতের জন্য অনুমোদনযোগ্য বিনিয়োগের পরিমাণ হবে ৫,৮০,০০০/- টাকার ৩০% অর্থাৎ ১,৭৪,০০০/- টাকা।

এ স্পষ্টীকরণ savings instruments এর সুদ আয়ের উপর উৎসে কর্তিত করের ভিত্তিতে আয় পরিগণনা সম্পর্কিত পূর্ববর্তী ব্যাখ্যা/স্পষ্টীকরনের উপর প্রাধিকারপ্রাপ্ত বলে গণ্য হবে।

মোঃ শব্বির আহমদ
প্রথম সচিব (কর নীতি)

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

12 − three =