Customs

১ । শুল্ক কর/ কাস্টমস ডিউটি

ব্যবসা বাণিজ্যের অনিবার্য অনুষঙ্গ হচ্ছে শুল্ক কর/কাস্টমস ডিউটি । Custom Act, 1969 ও তদধীনে প্রণীত বিধিমালা এবং প্রজ্ঞাপন, আদেশের আওতায় পণ্যের আমদানি ও রপ্তানী কার্যক্রম সম্পাদিত হয়ে থাকে ।

২ । পণ্যের আমদানি ও রপ্তনী যোগ্যতা

পণ্যের আমদানি ও রপ্তনী যোগ্যতা নিরূপিত হয় আমদানি ও রপ্তানী নিয়ন্ত্রন আইনের অধীনে প্রণীত আমদানি আদেশ ও রপ্তানী আদেশের মাধ্যমে । বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রতি তিন বছরের জন্য আমদানি নীতি আদেশ প্রণীত হয়ে থাকে । আমদানি নীতি আদেশে বর্ণিত আমদানি নিষিদ্ধ ও শর্ত সাপেক্ষে আমদানিযোগ্য পন্যসমূহ ব্যতীয় সকল পন্যই অবাধে আমদানিযোগ্য । একইভাবে রপ্তানী নীতি আদেশে বর্ণিত রপ্তানী নিষিদ্ধ ও শর্ত সাপেক্ষে রপ্তানীযোগ্য পন্যসমূহ ব্যতীত সকল পন্যই অবাধে রপ্তানী যোগ্য ।

আমদানি নীতি আদেশে বর্ণিত শর্ত সাপেক্ষে পণ্য আমদানির পর শুল্ক স্টেশন থেকে পণ্য ছাড়করণের জন্য পণ্যের ঘোষণা বিষয়ে যে বিল অব এন্ট্রি দাখিল করতে তার সাথে যে সব দলিলাদি উপস্থাপন করতে হয় তা হচ্ছে-

১. ভ্যাট নিবন্ধন পত্রের অনুলিপি

২. আইআরসির কপি

৩. বিল অব লেডিং

৪. পণ্যের ইনভয়েস

৫. প্যাকিং লিস্ট

০৩ ।  শুল্কযোগ্য পণ্য

Customs Act , 1969 এর Section 18 অনুযায়ী নিম্নবর্ণিত পণ্য সমূহের উপর কাস্টমস শুল্ক আরোপিতঃ

(ক) বাংলাদেশে আমদানিকৃত বা বাংলাদেশ হতে রপ্তানিকৃত পণ্য

(খ) কোন বৈদেশিক রাষ্ট্র হতে যে কোন কাস্টমস স্টেশনে আনীত পণ্য এবং সেখানে শুল্ক পরিশোধ না করে ট্রান্সশীপ বা পরিবহন করে বা অতঃপর বহন করে বা অন্য কোন শুল্ক স্টেশনে আমদানি করা হয় ।

(গ) এক কাস্টমস স্টেশন হতে অন্য কাস্টম স্টেশনে বন্ডে আনীত পণ্য । তবে কোন কাস্টমস শুল্ক অথবা বলবত কোন আইনের অধীনে কাস্টমস কর্মকর্তা কর্তৃক আরোপনীয় অন্য কর আরোপ ও আদায় করা হবে না,

১. যদি কোন একটি চালানের পন্যমূল্য ১,০০০ (এক হাজার) টাকার অধিক না হয় এবং

২.  শুল্ক করের মোট পরিমান ১,০০০ (এক হাজার) টাকার অধিক না হয় । এবং

(ঘ) সরকার সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা First Scheduleএ উল্লেখিত পন্যসমূহের উপর নির্ধারিত কাস্টমস শুল্কের সব্বোচ্চ হারের অধিন নয়-এমন হারের রেগুলেটরী শুল্ক আরোপ করতে পারবে । এ ধরনের রেগুলেটরী শুল্ক অর্থ বৎসর শেষ হওয়ার সাথে সাথে তা রহিত হয়ে যায় ।

০৪ । আমদানি শুল্কের হার

আমদানিকারককে পণ্যের ট্যারিফ শ্রেণী বিন্যাস অনুসারে শুল্কায়নযোগ্য মূল্যের ০% থেকে ২৫% এর সুনির্দিষ্ট হারে আমদানি শুল্ক পরিশোধ করতে হয় ।

২০১৪-২০১৫ অর্থ বছরে আমদানি শুল্কের চার স্তর বিশিষ্ট শুল্ক কাঠামো ০%, ৫%, ১০% এবং ২৫% বিদ্যনান রয়েছে । এ গুলো নিম্নরূপঃ

ক্রমিক নং খাত শুল্ক হার
খাদ্য, দ্রব্য, সার, বীজ, তুলা এবং ঔষধ ০%
মৌলিক যন্রপাতি এবং কাঁচামালের ওপর শুল্কহার ৫%
অন্তর্বর্তী বা মধ্যবর্তী কাঁচামালের ওপর শুল্কহার ১০%
সরব্বোচ্চ শুল্কহার ২৫%

 

এ ছাড়াও মূলধনী যন্রপাতি ও যন্রাংশ আমদানি এবং অন্যান্য বিশেষ বিশেষ পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে রেয়াতি হারে শুল্ক সুবিধা রয়েছে যা এ অধ্যায়ে বিভিন্ন এসাআরও তে বর্ণনা করা হয়েছে । তফসিল-১ (অর্থ আইন,২০১৪ এর ধারা ৪ অনুযায়ী সংশোধিত) FIRST SCHEDULEএ বর্ণিত এ বাংলাদেশে আমদানিয় পন্যসমূহের এইচ এস কোড অনুসারে আমদানী শূল্কের হার উল্লেখ করা হয়েছে ।

৫ । সম্পূরক শুল্কের হার

২০১৩-২০১৪ অর্থবছরের জন্য ১৯৯১ এর ২২ নং আইনের তৃতীয় তফসিল ( মূল্য সংযোজন কর আইনের ধারা ৭ ) অনুযায়ী পণ্য আমদানী ও সেবাসমূহের ক্ষেত্রে ১২ স্তর বিশিষ্ট সম্পূক শুল্ক আরোপিত আছে । এ স্তরসমূহ পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে । পুনর্বিন্যাস্ত স্তরগুলো হলো ১০%, ১৫%, ২০%, ২৫%, ৩০%, ৪৫%, ৬০%, ১০০%, ১৫০%, ২০০%, ২৫০%, ৩৫০% এবং ৫০০% । মূল্য সংযোজন কর অধ্যায়ে এ ব্যাপারে বর্ণনা করা হয়েছে । তাছাড়া কতিপয় পণ্যের সম্পূরক শুল্ক হ্রাস/প্রত্যাহার করা হয়েছে  অন্যদিকে কতিপয় পণ্যের সম্পূরক শুল্ক আরোপ/বৃদ্ধি  করা হয়েছে

৬ । রেগুলেটরি ডিউটির হার

সর্বোচ্চ শুল্ক হা (২৫%) প্রযোজ্য রয়েছে এমন পণ্যের ক্ষেত্রে ( কতিপয় ব্যতিক্রম ছাড়া ) বর্তমানে বলবৎ ৫% রেগলেটরি ডিউটি ২০১৪-২০১৫ অর্থ বছরেও অব্যাহত রাখা হয়েছে । শুল্কহার ১০% রয়েছে এমন পণ্যের মধ্যে কিছু কিছু পণ্যের ক্ষেরতে ৫% রেগুলেটরি ডিউটি আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে যা ১ জুলাই, ২০১৪ হতে কার্যকর হবে । কতিপয় পণ্যের এগুলেটরী ডিউটি অব্যাহতি দেয়া হয়েছে  কতিপয় পণ্যের উপরে রেগুলেটরি ডিউটি আরোপিত আছে

৭ । শুল্ক মূল্যায়ন/ শুল্কমূল্য নির্ধারণ পক্রিয়া

আমদানিকৃত পণ্যের যথাযথ শুল্ক ও কর আদায়ের জন্য দীর্ঘদিন যাবৎ পণ্যের আমদানি মূল্য Cost, Freight and Insurance (CIF) বা যোগ করে শুল্ক ও কর আরোপযোগ্য মূল্য নির্ধারণ পক্রিয়া অব্যাহত আছে । পণ্যের উৎস, উৎসদেশের স্বাভাবিক দর, ভাড়া, ভাড়ার উপর পরিশোধিত বীমা ইত্যাদি মিলেই পণ্যের শুল্কায়নযোগ্য মূল্য শুল্ক কর্মকর্তা কর্তৃক গৃহীত হয় ।   শুল্ক ভবন বা শুল্ক স্টশনে পণ্যের স্বাভাবিক মূল্য নির্ধারণের ভিত্তি হিসেবে একই পণ্যের একই দেশ হতে আমদানি, আমদানির সময়কাল, অনুরূপ পণ্যের আমদানি, কিংবা আমদানিতব্য পণ্যের স্থানীয় বাজার দর বিবেচনায় নেয়া হয় । অনেক সমস্য পণ্যের শুল্কমূল্য ধার্যের ক্ষেরতে আমদানিকৃত পণ্যের পরিমাণ একটি বড় নিয়ামক । কেননা, কম পরিমাণ পণ্যের মূল্য বেশি ও বেশি পরিমাণ পণ্যের মূল্য কম হওয়া স্বাভাবিক ।

বাংলাদেশ বর্তমানে গ্যাট ভ্যালুয়েশন চুক্তির আওতাভূক্ত দেশ হওয়ায় PSI (Pre-Shipment Inspection ) কোম্পানীর মাধ্যমে GATT VALUATION AGREEMENT এর শর্তানুযায়ী প্রকৃত পরিশোধিত বা পরিশোধযোগ্য (Actual paid or payable) মূল্যের ভিত্তিতে শুল্কায়নের উদ্দেশ্যে নিয়োগপেয়াপ্ত । ফলে, অধিকাংশ পণ্য PSI-Certificate এর শুল্ক ধার্যয়ের উদ্দেশ্যে মূল্য নির্ধারণ বা মূল্যায়ন করা হচ্ছে ।

The Custom Act 1969 এর Section-25 শুল্কায়নের উদ্দেশ্যে পণ্যের মুল্য ধার্যের জন্য নির্ধারিত  প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রোয়োগযোগ্য বিধান। নীচে Section – 25 ও 25A, সম্পর্কে সংক্ষেপে প্রয়োজনীয় বিষয়াদি উল্লেখ করা হলো, যথাঃ-

Section – 25

প্রকৃত মূল্যঃ- যখন কাষ্টম শুল্ক পণ্যের মূল্যের ভিত্তিতে আরোপণীয় হয় তখন সেই মূল্য প্রকৃত মূল্য হবে যা প্রকৃতপক্ষে পরিশোধিত হয় বা পরিশোধযোগ্য হয় । অর্থাৎ উক্ত পণ্যের নিকটতম নিরুপণযোগ্য সমর্থকমূল্য, যে মূল্যে সম্পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক অবস্থায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রক্রিয়ায় উক্ত পণ্য বা অনুরূপ পণ্য আমদানির সময় এবং স্থানে এবং ক্ষেত্রমত রপ্তানীর সময় এবং স্থানে অর্পণের উদ্দেশ্যে সাধারনতঃ বিক্রয় করা হয় অথবা বিক্রয়ের প্রস্তাব করা হয় । যেখানে বিক্রেতা এবং ক্রেতার মধ্যে একে অন্যের ব্যবসায়ে কোন স্বার্থ থাকে না এবং বিক্রয় অথবা বিক্রয় প্রস্তাবে মূল্যি একমাত্র বিবেচ্য বিষয় হয় । প্রকৃত মূল্য=ম্পন্যের ক্রয় মূলে + ভাড়া + বীমা কমিশন + মাশুল + বিক্রয় খরচ + অন্যান্য + আনুসাঙ্গিক ব্যয় ।

ট্র্যারিফ মূল্যঃ- কোন পণ্যের ট্যারিফ মূল্য নির্ধারণ হয় সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা এর ধারা প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার কাষ্টমস শুল্ক আরোপের জন্য আমদানিকৃত বা রপ্তানিকৃত পণ্যের ট্যারিফ মূল্য নির্ধারণ করতে পারে । যে ক্ষেত্রে ট্যারিফ মূল্য নির্ধারিত থাকে সে ক্ষেত্রে প্রকৃত মূল্য বা অন্য কোন মূল্য গ্রহণযোগ্য নয় । সাধারনতঃ ট্যারিফ মূল্য কমপক্ষে পূর্বাপর ছয় মাসের মধ্যে আমদানিকৃত ও শুল্কায়িত রেকর্ড মূল্য যাচাই করে সর্বনিম্ন মূল্য ধার্য করা হয় । তবে, যদি কোন আমদানিকারক ট্যারিফ মূল্যের চেয়ে ঘোষিত মূল্য বেশী প্রদর্শন করেন তখন ইনভয়েস মূল্যেই শুল্কায়ন হবে । এস আর ও নং- ১৩৫-আইন/২০১৩/২৪৯৯/কাষ্টমস, তারিখ ০৫ জুন, ২০১৪ দ্বারা কতিপয় পণ্যের ট্যারিফ মূল্য পরিবর্তন করা হয়েছে ।

Section – 25A

আইনের Section – 25A এর আওয়াতায় প্রি- শিপমেন্ট ইন্সপেকশন এজেন্সি কর্তৃক প্রদত্ত প্রত্যয়ন পত্রের ভিত্তিতে শুল্কায়ন মূল্য নির্ধারণ হয় । PSI কোম্পানীর প্রত্যয়নপত্র প্রদান। উদ্দেশ্য, নিয়োগ ইত্যাদির বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রি-শিপমেন্ট ইন্সপেকশন বিধিমালা – ২০০২ (এস, আর, ও নং-২৫৫-আইন/২০০২/১৯৭৩/ শুল্ক তারিখঃ ১৯/৯/২০০২ ) তে বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে । বিধিমালা এস আর ও নং- ১৫৬/আইন/২০১৩/২৪৪৩/কাষ্টমস, তারিখঃ ৬ জুন, ২০১৩ অনুযায়ী মূল্যের উপর ব্লক ওয়ারী পিএসআই ফি পরিশোধের হার নিম্নরূপঃ-

ক্রমিক নং বস্নকের নাম পিএসআই ফি এর শতকরা হার ( সি আইএফ মূল্যের উপর
ব্লক-এ ০.১০%
ব্লক-বি ০.১৪৫%
ব্লক-সি ০.২৭৫%
ব্লক-ডি ০.৩৫০%
ব্লক-ই ০.৫৫০%

তবে বর্তমানে বাধ্যতামূলক PSI এর পরিবর্তে স্বেচ্ছায়মূলক (optional) PSI বলবৎ আছে ।

৮ । বিরোধ মীমাংসা

যদি কোম্পানীর প্রত্যায়নপত্র দ্বারা পণ্য খালাসের পর আমদানিকারকের নিকট প্রতীয়মান হয় যে, প্রত্যায়ন পত্রটির কারণে অথবা পরিদর্শন স্নগস্থা কর্তৃক বিধিমালার কোন যতাযথভাবে অনুসরণ না করার কারণে অথবা শুল্ক কর্মকর্তার কোন সিদ্ধান্তের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এ উদ্দেশ্যে গঠিত রিভিউ কমিটির নিকট অভিযোগ দায়ের করতে পারেন । অর্থাৎ বিরোধের নষ্পত্তি করতেই এই রিভিউ কমিটি গঠন করা হয় । বোর্ড প্রতিটি শুল্ক ভবন বা শুল্ক ষ্টেশনে অনধিক ৫ (পাঁচ) সদস্য বিশিষ্ট একটি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিটি গঠন করবে, যাতে অন্যূন্য ২ (দুই) জন বেসরকারী সদস্য থাকবে ।

রিভিউ কমিটি

রিভিউ কমিটির কার্যক্রম :

(ক) অভিযোগ প্রাপ্তির ৪৫ কার্যদিবসের মধ্যে সকল শুনানী সম্পন্ন করা এবং শুনানী সম্পন্ন হওয়ার ৭টি কার্যদিবসের মধ্যে সিদ্ধান্ত লিখিতভাবে পক্ষগণকে অভিত করা;

(খ) রিভিউ কমিটি ঢাকা,চট্রগ্রাম এবং বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত যে কোন স্থানে শুনানী গ্রহন করতে পারবে;

(গ) শুনানী গ্রহণকালে উপস্থিত থাকার জন্য উভয় পক্ষকে নোটিশ প্রদান করবে;

(ঘ) ন্যূনতম তিন সদস্যের উপস্থিতিতে সভার কোরাম গঠিত হবে ঃ সংখ্যা গরিষ্ঠানের ভিত্তিতে কমিটি সিদ্ধান্ত গ্রহন করবে;

(ঙ) লিখিতভাবে এবং যুক্তিসংগত কারণ সভাপতিকে অবহিত না করে অভিযোগকারী সভায় অনুপস্থিতি থাকলে সভাপতি তার আবেদন খারিজ করতে পারবেন । অনুরূপভাবে প্রতিপক্ষের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে ।

(চ) রিভিউ কমিটির সিদ্ধান্তে সংক্ষুব্ধ হলে যে কোন পক্ষ সংশ্লিষ্ট শুল্ক ভবনের কমিশনারে নিকট আপীল করা যাবে ।

অন্যান্য বিরোধ মীমাংসা : সাধারণতঃ যে সকল অভিযোগ/ আপত্তি রিভিউ কমিটিতে প্রেরণ করা হয় না সে সকল অভিযোগ/ আপত্তি কাস্টমস হাউসে গঠিত এসেসমেন্ট কমিটি কর্তৃক নিষ্পত্তি করা হয় ।  কমিশনার কর্তৃক উক্ত এসেসমেন্ট কমিটি গঠিত হয় যাতে আবেদনকারী, চেম্বারের প্রতিনিধি এবং ক্ষেত্রমত CCIM&E এর প্রতিনিধিগণ সম্পৃক্ত থাকেন ।  এসেসমেন্ট কমিটি H. S. Code বিষয়ক বিরোধও মীমাংসা করেন । প্রয়োজনে এসেসমেন্ট কমিটি নমুনা পরীক্ষা ও এর বাস্তব ব্যবহার, গুণাগুণ ইত্যাদি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহন কের থাকেন । কোন ক্ষেত্রে এইচ এস কোড সম্পর্কে এসেসমেন্ট কমিটি সিদ্ধান্ত গ্রহণে ব্যর্থ হলে তা WCO এ প্রেরণ করা হয় ।

৯ । এন্টি-ডাম্পিং, কাউন্টার ভেইলিং এবং সেইফগার্ড শুল্ক আরোপ :

এ তিনটি বিষয়ে The Custom Act,1969 এ প্রয়োজনীয় বিধান সন্নিবেশন করা হয়েছে । সংক্ষেপে  বিধিগুলো নিম্নরূপ

কাউন্টার ভেইলিং শুল্ক আরোপ :  যদি কোন দেশ বা এলাকা কোন পণ্যের প্রস্তুতকরণ বা উতপাদনে অথবা সেখানে হতে রপ্তানিতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে উক্ত পণ্য পরিবহন ভর্তকিসহ কোন ভর্তুকি প্রদান করে, তা হলে, উক্ত পণ্য যে দেশে পেস্তুত, উৎপাদিত বা ভিন্নভাবে প্রাপ্ত শে দেশ হইতে সরাসরিয়ামদানি করা হোক না কেন এবং তা প্রস্তুতকৃত বা উৎপাদিত দেশ হতে রপ্তানি সময়ে যে অবস্থায় ছিল সেই অবস্থায় অথবা প্রস্তুতকরণ, উৎপাদন দ্বারা বা ভিন্নভাবে পরিবর্তিত অবস্থায় আমদানি করা হোক না কেন, উক্ত পণ্য আমদানিতে সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, উহার উপর উক্ত ভর্তুকির অনধিক পরিমাণ কাউন্টারভেইলিং শুল্ক আরোপ করতে পারবে । The Custom Act, 1969 এর Section 18 A অনুসরণ করা হয় ।

এন্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ : যদি কোন দেশ বা এলাকা হতে কোন পণ্য তার স্বাভাবিক মূল্যের চেয়ে কম মূল্যে বাংলাদেশে রপ্তানি করা হয় তা হলে উক্ত পণ্য আমদানিতে সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এর উপর এন্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করতে পারবে , যা উক্ত পণ্যের ডাম্পিং এর ব্যবধানের অধিক হবে না । The Custom Act, 1969 এর Section 18 B অনুসরণ করা হয় ।

সেইফগার্ড শুল্ক আরোপ : যদি সরকার যেরূপ সঙ্গত বিবেচনা করে সেরূপ তদন্ত অনুষ্ঠান করে সন্তুষ্ট হয় যে কোন বাংলাদেশে এমন বর্ধিত পরিমাণে এমন শর্তে আমদানি করা হচ্ছে যাতে স্থানীয় শিল্পের গুরুতর স্বার্থহানী ঘটতে অথবা স্বার্থহানি হওয়ার হুমকির সৃষ্টি করতে পারে, তা হলে সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, উক্ত পণ্যের উপর সেইফগার্ড শুল্ক আরোপ করতে পারবে । The Custom Act, 1969 এর Section 18 C অনুসরণ করা হয় ।

১০ । শুল্ক প্রত্যর্পণ

সকল ধরনের প্রত্যর্পনের জন্য DEDO বা Duty Exemption and Drawback Office বা শুল্ক রেয়াত ও প্রত্যর্পণ পরিদপ্তর ক্ষমতা প্রাপ্ত । The Customs Act, 1969 এর Section 35, 36, 37, 38 অনুযায়ী কেবল কাস্টমস ডিউটি প্রত্যর্পণ প্রদানযোগ্য । এ ছাড়া Section 39 হচ্ছে যে ক্ষেত্রে প্রত্যর্পণ মঞ্জুর করা যাবে না এবং ধারা ৪১ হচ্ছে প্রত্যর্পণ দাবীর জন্য দাবীদার কর্তৃক ঘোষণা প্রদান । অপরদিকে মূল্য সংযোজন কর আইন, ১৯৯১ এর ধারা ১৩ অনুযায়ী একজন রপ্তানীকারক আমদানি শুল্ক, সম্পূরকশুল্ক, আবগরী শুল্ক এবং মূল্য সংযোজন কর প্রত্যর্পণ পাওয়ার যোগ্য । প্রত্যর্পণ পাওয়ার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো, রপ্তানীর ছয় মাসের মধ্যে প্রত্যর্পণ দাবী দাখিল করতে হবে ।

ড্র-ব্যাক অর্থ :

The Customs Act 1969 অনুযায়ী Drawback অর্থ আমদানিকৃত কোন পণ্যের উপর পরিশোধিত আমদানি শুল্ক যা বাংলাদেশের বাইরে অথবা বিদেশগামী কোন যানবহনে রপ্তানী করা হলে, উক্ত শুল্কের সাত-অষ্টমাংশ শর্ত সাপেক্ষে ফেরত প্রদান ।