৩০ নভেম্বরের পর রিটার্ন জমা দিলে সুদ দিতে হবে

৩০ নভেম্বরের পর বার্ষিক আয়কর বিবরণী বা রিটার্ন জমা দিলে নির্ধারিত করের ওপর সুদ আরোপ হবে। এমনকি বিবরণী জমার সময় বাড়ানোর আবেদন মঞ্জুর হলেও সুদ দিতেই হবে। চলতি অর্থবছর থেকে এ নিয়ম চালু করা হয়েছে।

চলতি অর্থবছরের বাজেটে বিদ্যমান আয়কর অধ্যাদেশে ৭৩এ নামে নতুন একটি ধারা সন্নিবেশিত করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ে কোনো করদাতা বার্ষিক আয়কর বিবরণী জমা দিতে ব্যর্থ হলে ওই ব্যক্তির করের ওপর মাসিক ২ শতাংশ হারে বিলম্ব সুদ দিতে হবে। তবে সুদ নির্ধারণ হবে সারা বছরে ওই করদাতা যে উৎসে কর ও অগ্রিম কর দিয়েছেন, তা বাদ দিয়ে আয়করের ওপর। গত ১ জুলাই থেকে এ বিলম্ব সুদ কার্যকর করা হয়েছে। তবে একজন করদাতা সর্বোচ্চ এক বছর পর্যন্ত বিলম্ব সুদ দিয়ে আয়কর পরিশোধ করতে পারবেন।

উদাহরণ দিয়ে বলা যায়, একজন করদাতা গত অর্থবছরে (জুন থেকে জুলাই) ৬ লাখ টাকা আয় করেছেন। ধরা যাক, কর রেয়াত নেওয়ার পর আয়করের পরিমাণ ৩০ হাজার টাকা। কিন্তু সারা বছরে তিনি উৎসে কর ৪ হাজার টাকা এবং ১২ হাজার টাকা অগ্রিম কর দিয়েছেন। কিন্তু ৩০ নভেম্বরের মধ্যে তিনি বার্ষিক আয়কর বিবরণী জমা দিতে পারলেন না। পরে তিনি যুক্তিগত কারণ দেখিয়ে কর উপকমিশনারের কাছ থেকে দুই মাস সময় বাড়িয়ে নিলেন।

দুই মাস পর ৩০ জানুয়ারি তিনি আয়কর বিবরণী জমা দিলেন। উৎসে কর ও অগ্রিম করের টাকা বাদ দিয়ে বাকি ১৪ হাজার টাকার ওপর সুদ আরোপ হবে। সেই হিসাবে দুই মাসে ৫৬০ টাকা সুদ দিতে হবে। ওই ব্যক্তি যদি আয়কর বিবরণী জমার সময় ওই সুদের টাকা না দেন; তবে উপকমিশনার আরও ৫৬০ টাকা বিলম্ব সুদের টাকা দাবিনামা জারি করবেন।

চলতি অর্থবছর থেকে রিটার্ন জমার সময় আর না বাড়ানোর আইনগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তাই বাজেটে আগের ৩০ সেপ্টেম্বর পরিবর্তে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত এ সময়সীমা নির্ধারণ করে আয়কর অধ্যাদেশ সংশোধন করা হয়েছে। এরপর কোনো করদাতা যুক্তিসংগত কারণ দেখিয়ে উপ কর কমিশনারের কাছ থেকে রিটার্ন দাখিলের সময় আরও দুই মাস বাড়াতে পারেন।

Prothom Alo

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

nineteen − nineteen =