শত কোটি টাকার ব্যাবসা! রাজস্ব প্যাকেজ ভ্যাট ???

ব্যবসাতে বনেদিয়ানা এবং ভ্যাট ফাঁকিতে মুন্সিয়ানায় এইস টি সি (হাসান ট্রেডিং কোম্পানি) এর জুড়ি মেলা ভার। কোম্পানির প্রোফাইল অনুযায়ী ১৯৮২ সালে ব্যবসার যাত্রা শুরু। ১৯৯১ সালে মূসক নিবন্ধন গ্রহণ করেন। অথচ ব্যবসায় পর্যায়ে মূসক পরিশোধের বিধান জানেন না। কেবল প্যাকেজ ভ্যাট পরিশোধ করেন। অভিযোগের পাহাড় ক্রমশ আকাশচুম্বী। করফাঁকির বিরুদ্ধে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড জিরো টলারেন্স নীতিতে অটল। তাই করফাঁকির ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির অস্বাভাবিক প্রবণতার ওপর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এর তীক্ষ্ণ নজরদারি । করফাঁকির প্রবণতার লাগাম ধরতেই ভ্যাট গোয়েন্দার অকষ্মাৎ আবির্ভাব। এ যেন এইস টি সি এর আকাশে বিনামেঘে বজ্রপাত। যেন মূর্তিমান আতঙ্কের সাক্ষাৎ। প্রথমেই পণ্যাগার (গোডাউন) প্রাঙ্গনে গমন। ধূর্ত কর্মচারীরা অসহায় ভঙ্গিতে দন্ডায়মান। দাবি, চাবি মালিকের নিয়ন্ত্রনে। মালিকের হুকুম একমাত্র সমাধান। মালিক ও প্রতিষ্ঠানের মাঝে দুরতিক্রম্য ব্যবধান। অপেক্ষার এক পর্যায়ে এক প্রতিনিধির আগমন। সাক্ষাৎ প্রতিনিধি ও মালিকের কথোপকথন। মালিকের পৌঁছাতে কমপক্ষে ২ ঘন্টা লাগবে। তার আগে কিছুতেই পণ্যাগার দর্শনের সুযোগ নেই। অগত্যা অনন্ত অপেক্ষা। প্রতিষ্ঠানের সুকৌশল কালক্ষেপন । গোয়েন্দা দলের লক্ষ্য এবার প্রতিষ্ঠানের প্রধান কাযালয়। উপস্থিত নতুন অজুহাত। অফিসে কেউই নেই। অফিস বন্ধ। অনেক দূর। ছোট দুর্গম গলিতে গাড়ির প্রবেশ অসম্ভব। হেটেই যেতে হবে। দুর্গম যাত্রাই গোয়েন্দা দলের কাজ। হাঁটতে সমস্যা নেই। অফিসের অবস্থান জানতেই হবে। গোয়েন্দা দলের কিছু সদস্য প্রধান কাযালয়ে পৌঁছায়। ১১ বিসিসি রোড, (২য় তলা), ঢাকা-১২০৩ ঠিকানায় যার অবস্থান। তাজ্জব বনে যাওয়ার পালা। প্রতিষ্ঠানের দলিলাদি নিয়ে কর্মচারীদের লুকোচুরি ও ভৌঁদৌড় প্রতিযোগিতা। কেউ জানালায় ছুঁড়েন । কেউ নিচে লুকানোর চেষ্টা করেন। গোয়েন্দা দলের তীক্ষ্ণ দৃষ্টির কাছে হার মেনে সমর্পন করে দলিলাদি। এবার তাঁদের চ্যালেঞ্জ, আপনারা কারা, হঠাৎ আসার হেতু কি? মনে হয়, কিছুই জানেন না। অথচ এরই মধ্যে জরুরী অনেক দলিলাদি হাওয়া। হেতুবাদ ব্যাখ্যার পরও দলিলাদি দেখতে দেওয়া হবে না। মালিক নিজেই সবকিছু নিয়ে পরদিন গোয়েন্দা অফিসে আসবেন। ধোঁকা দেওয়ার বারংবার চেষ্টা আর উদ্যোম। গোয়েন্দা দল দমে যাওয়ার পাত্র নয়। সুকৌশলে যথাসাধ্য চেষ্টা করে অতীব জরুরী দলিলাদি জব্দ করে আনা হয়। কতৃপক্ষের দাবি, বিপনন পর্যায়ে তিনি ভ্যাট গ্রহণ করেন না । তাহলে ভ্যাটের প্রসঙ্গ কেন? কি সুযুক্তি!!! অথচ হিসাব নিকাশ করে টের পাওয়া যায়, ব্যবসায় পর্যায়ে কোন কোন পণ্যে ১৫৬৪% পযন্ত মূল্য সংযোজনের নজির দৃশ্যমান। মূসক ফাকির পরিমাণ ২৯,৮৯,৮২,৭৩৭.৮০ টাকা, আদায়যোগ্য সুদের পরিমাণ ২৫,৪০,২৬,৬৯৫.৫০ টাকা, সর্বমোট আদায়যোগ্য ৫৫,৩০,০৯,৪৩৩.৩০ টাকা।

www.facebook.com/vatintelligencebd

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2 + six =