রাজস্ব সম্মেলনে এনবিআরের ১০ সিদ্ধান্ত

২০১৬-২০১৭ অর্থবছরের রাজস্ব সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে রাজস্ব ফাঁকি রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়াসহ ১০ সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

রোববার রাজধানীর সেগুন বাগিচায় শুল্ক ও ভ্যাট বিভাগের রাজস্ব সংগ্রহ সংক্রান্ত অগ্রগতি ও পর্যালোচনা বিষয়ক মাসিক রাজস্ব সম্মেলনে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

রাজস্ব সম্মেলনে রাষ্ট্রের রাজস্ব ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করতে নানামুখী উদ্যোগের পাশাপাশি শুল্ক ও মূসক ফাঁকি রোধ কার্যক্রমের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ দিয়ে সভায় সর্বসম্মতভাবে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সিদ্ধান্তগুলো হলো- মাঠ পর্যায়ে শুল্ক ও মূসক আহরণ সংক্রান্ত কার্যক্রমে যেসব চ্যালেঞ্জ রয়েছে তা মোকাবিলায় রাজস্ব বোর্ড প্রণীত কৌশলপত্র অনুযায়ী যথাযথভাবে কাজ করা।

২০১৭ সালের জুলাইতে মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মাঠ পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশীজনদের সাথে মতবিনিময় সভা, আলোচনা সভা ও কর্মশালা আয়োজন করা।

মাসিক রাজস্ব সম্মেলন অনুষ্ঠানে নির্ধারিত তারিখের পূর্বে প্রস্তুতিমূলক সভা ডিজিটাল পদ্ধতিতে করা। বিশেষ করে শুল্ক ও ভ্যাট আদায়, এডিআর ও কেস স্টাডি প্রতিবেদন সংক্রান্ত অগ্রগতি যথাযথভাবে পর্যালোচনা করা।

কাস্টমস হাউস ও শুল্ক স্টেশনসমূহে পণ্য খালাসে হয়রানি, সময়ক্ষেপণ, ভোগান্তি নিরসনের জন্য আরো সচেতনভাবে কাজ করা এবং আমদানি-রপ্তানি কাজ আরো গতিশীলভাবে করা।

বিকল্পবিরোধ নিষ্পত্তি কার্যক্রমকে (অউজ) অধিকতর কার্যকর করার জন্য বছরের শুরুতেই প্রতিটি কমিশনারেটের এডিআর এর মাধ্যমে সম্ভাব্য নিষ্পত্তিযোগ্য মামলাসমূহের একটি তালিকা প্রণয়ন করা।

এনবিআরের আওতাধীন বিভিন্ন কাস্টমস হাউস ও কমিশনারেটসমূহের অনিষ্পন্ন মামলাসমূহ ডিজিটাল পদ্ধতিতে দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য করদাতা ও রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তাদের মাঝে বন্ধুত্বপূর্ণ ও পারস্পরিক সহযোগিতামূলক সুসম্পর্ক এবং আস্থার পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে এডিআর পদ্ধতিকে কার্যকর করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ।

শুল্ক ও মূসক বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সেবাধর্মী মনোভাব নিয়ে কাজ করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়। যাতে করে শুল্ক ও মূসক বিভাগের প্রতি জনগণের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি অব্যাহত থাকে।

এনবিআর প্রবর্তিত রেভিনিউ মবিলাইজেশন ফোরামের মাধ্যমে দৈনন্দিন ভিত্তিতে রাজস্ব সংগ্রহ পদ্ধতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এ পর্যালোচনার ফলাফল তাৎক্ষণিকভাবে সকল কমিশনার ও মহাপরিচালকদেরকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে যোগাযোগপূর্বক অবহিত করা।

রাজস্ব ফাঁকি রোধে পরিচালিত বিভিন্ন অভিযান আরো ফলাফলভিত্তিক এবং সক্রিয় করা। এবং দেশে যে সকল অসৎ ব্যবসায়ী রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া। এজন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি), শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর এবং মূসক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরসহ সরকারের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার সাথে সমন্বয় করে যৌথভাবে অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা।

সভায় এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান বলেন, চলতি অর্থবছরে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে পরিচালিত কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণপূর্বক রাজস্ব সংগ্রহের ধারাবাহিকতা এবং গতিশীলতা বজায় রাখতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। রাজস্ব সংগ্রহের কাজে সর্বাত্মকভাবে মনোনিবেশ করার পাশাপাশি রাজস্ববান্ধব, ব্যবসাবান্ধব ও করদাতাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৬/এম এ রহমান/সাইফ

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

18 + eleven =