ভ্যাটের শত কোটি টাকা আত্মসাৎ! গোয়েন্দা অভিযান, একদিনেই ৩৮ লাখ টাকার ফাঁকি উদ্ঘাটন

মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট আদায় বাড়াতে এবার গোয়েন্দা অভিযান শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ভ্যাট ফাঁকি রোধে টাস্কফোর্সও মাঠ পর্যায়ে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। যে করেই হোক আদায় বাড়ানো এবং ভ্যাট ফাঁকি রোধ করতে চায় সরকার।  একদিনের অভিযানেই ৩৮ লাখ টাকার ভ্যাট ফাঁকি উদঘাটন করা হয়েছে।

 

সূত্র বলেছে, ফার্নিচার, মিষ্টির দোকান, রেস্টুরেন্ট, ফার্স্টফুড শপ, শীততাপ নিয়ন্ত্রিত টেইলারিং হাউজ, বুটিকের দোকানগুলোতে ব্যাপক হারে ভ্যাট ফাঁকি হচ্ছে। এগুলোতে নিয়মিত মনিটরিংয়ের অভাব ও কিছু অসাধু কর্মকর্তার সহযোগিতায় ফাঁকির পরিমাণ ক্রমশ বাড়ছে। গ্রাহকদের কাছ থেকে ভ্যাটের অর্থ সংগ্রহ করলেও সরকারের কাছে তা জমা না দিয়ে আত্মসাত্ করছে। সঠিক হিসাব করলে এর পরিমাণ বছরে কয়েকশ’ কোটি টাকা। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ চলে যাচ্ছে ব্যবসায়ীর পকেটে। এসব কারণে ভ্যাট আরোপ এবং আদায় নিয়ে ন্যায্যতার প্রশ্নও উঠেছে। এ খাত থেকে আদায় সহজ হওয়ায় বেশি নজর দেয়া হচ্ছে। কিন্তু সাধারণ জনগণকে এর ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

 

সূত্রমতে, সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন বৃদ্ধি ও চলতি বছরের বাজেট ব্যয় মেটাতে অধিক হারে রাজস্ব আহরণে জোর দিচ্ছে সরকার। পরোক্ষ কর হওয়ায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায় করা তুলনামূলক সহজ। কিন্তু গ্রাহকদের পকেটের টাকা যথাযথভাবে সরকার পায় না। এক শ্রেণির কর্মকর্তার যোগসাজশে ভ্যাটের অর্থ আত্মসাত্ করা হয়। কখনো কখনো রাজস্ব কর্মকর্তারা ফাঁকি উদঘাটন করলেও ‘উপরে’র চাপে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। ফলে, ভ্যাট কর্মকর্তাদের কেউ কেউ বেশ হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন। আবার ‘উপরে’র কথা না শুনলে ইতিপূর্বে অনেকেই শাস্তিমূলক বদলির অভিজ্ঞতার মুখোমুখিও হয়েছেন। যদিও রাজস্ব বোর্ডের বর্তমান চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান সর্বশেষ বদলির একটি নীতিমালা গ্রহণ করেছেন।

 

সূত্রমতে, মিষ্টির দোকানে ভ্যাট ফাঁকির বিষয়টি বেশ আলোচিত। ভ্যাটের অর্থ আদায় করতে মিষ্টি নিলামে ওঠানোর ঘটনাও ঘটেছে। গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায়কৃত অর্থ সরকারি কোষাগারে না দিয়ে নিজেরাই পকেটস্থ করছে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত লেডিস টেইলার্সগুলোর ভ্যাট ফাঁকি ধরতে গতকাল অভিযান চালিয়েছে ভ্যাট গোয়েন্দারা। ঢাকার গাউছিয়া সংলগ্ন নূর ম্যানশন, ইসমাইল ম্যানশন, কলাবাগানস্থ লেকভিউ সুপার মার্কেটের দোকানগুলো এ অভিযানের আওতায় পড়ে এবং ভ্যাট ফাঁকির ঘটনা উদঘাটিত হয়। ঝটিকা এ অভিযান আরো পরিচালনা করা হয় বাংলামোটর এলাকার সামসুদ্দিন ও মমতাজ ম্যানশনের ৬৪টি দোকানে। এ ছাড়া ঢাকার ২৬টি মিষ্টির দোকানেও অভিযান চালান হয়। নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (ভ্যাট) যুগ্ম পরিচালক সৈয়দ আতিকুর রহমান জানান, ভ্যাট ফাঁকি রোধে টাস্কফোর্স গঠন করা হবে এবং এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

 

ফার্নিচারের শো-রুমগুলোতেও ঠিকমত এন্ট্রি দেয়া হয় না এবং এ খাতে বড় বড় কোম্পানিগুলো ভ্যাট ফাঁকি দিচ্ছে জানিয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ইতিমধ্যে একটি বড় কোম্পানির ফাঁকির ঘটনা ধরা পড়েছে এবং অর্থ আদায় করা হয়েছে। বুটিকের দোকান, রেস্টুরেন্ট, ফার্স্টফুড শপগুলোতেও ভ্যাটের অর্থ ফাঁকির ঘটনা ঘটছে। এ বিষয়ে আরো কঠোর মনিটরিং জরুরি বলেও সূত্র জানায়। এসব দোকানের অধিকাংশেরই আবার ভ্যাট নিবন্ধন নেই। অনেকে ভ্যাট চালান ইস্যু করে না। কেউ আবার ক্রয়-বিক্রয় রেজিস্ট্রারও রাখে না। প্রকৃত বিক্রয় গোপন রেখে ভ্যাট ফাঁকি দিতেই এগুলো করা হয়।
The Daily Ittefaq

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

two × five =