নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানই বেতন দেওয়ার আগে বেতন থেকে প্রতি মাসে অগ্রিম কর কেটে এনবিআরে জমা দেবে

করযোগ্য আয় থাকলে প্রতি মাসেই চাকরিজীবীদের অগ্রিম কর দিতে হবে। নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানই বেতন দেওয়ার আগে এ অর্থ কেটে এনবিআরে জমা দেবে। এ ছাড়া সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন ১৬ হাজার টাকার বেশি হলেই বার্ষিক আয়কর বিবরণী জমা বাধ্যতামূলক। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কিংবা উৎপাদনের তত্ত্বাবধান পর্যায়ে সব চাকরিজীবীর ইলেকট্রনিক কর শনাক্তকরণ নম্বর (ই-টিআইএন) নিতেই হবে।

চলতি অর্থবছরের বাজেটে চাকরিজীবীদের আয়কর বিবরণী ও কর দেওয়ার বিষয়ে বেশ কিছু নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো প্রতি মাসে বেতন থেকে অগ্রিম কর কাটা, সরকারি কর্মকর্তাদের নির্দিষ্ট সীমার আয়ের বেশি হলে আয়কর বিবরণী জমা এবং বেসরকারি চাকরিজীবীদের ই-টিআইএন বাধ্যতামূলক। ইতিমধ্যে এনবিআর এসব নতুন উদ্যোগের কথা করদাতাদের জানাতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রচার শুরু করেছে। যদিও বেতন থেকে অগ্রিম কর কাটার বিষয়টি আইনে আগেই ছিল। কিন্তু সব ক্ষেত্রে বাস্তবায়ন হতো না।
করযোগ্য আয় করেন এমন সব সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীর বেতন থেকে প্রতি মাসেই অগ্রিম আয়কর কেটে রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বিজ্ঞাপনে। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী, অগ্রিম করের পরিমাণ নির্ধারণের জন্য বার্ষিক আয়, বিনিয়োগের অনুমানভিত্তিক পরিমাণ হিসাব করতে হবে। বিনিয়োগে কর রেয়াত বাদ দিয়ে যে পরিমাণ আয় অবশিষ্ট থাকবে, সেটাকে ধরে প্রদেয় কর হিসাব করতে হবে। এ অনুমিত করের পরিমাণকে ১২ দিয়ে ভাগ করে প্রতি মাসে তা বেতন থেকে কেটে রাখা হবে। সেই কর অগ্রিম কর হিসেবে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে। অগ্রিম করের অর্থ কেটে রেখে কর্মীদের বেতন-ভাতা দিতে হবে নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানকে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মজিদ বলেন, বেতন থেকে অগ্রিম আয়কর নিলে চাকরিজীবী করদাতা ও নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান—উভয়ের আয়-ব্যয়ের হিসাবে স্বচ্ছতা আসবে। যেহেতু নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানই অগ্রিম কর জমা দেবে, তাই এনবিআরের উচিত হবে প্রতিষ্ঠানগুলো সঠিকভাবে অগ্রিম করের অর্থ জমা দিচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা।
যদি কোনো সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীর মূল বেতন ১৬ হাজার টাকা বা তার বেশি হয় তাহলে বার্ষিক আয়কর বিবরণী জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী, দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তাদেরও আয়কর বিবরণী জমা দিতে হবে। এ ছাড়া বেতনকাঠামোর দশম বা সমতুল্য গ্রেড বা এর বেশি গ্রেডের বেতনধারীদের ই-টিআইএন নেওয়া বাধ্যতামূলক। এমনকি সরকারি উৎসের এমপিওভুক্তির আওতায় কোনো চাকরিজীবীর মূল বেতন যদি ১৬ হাজার টাকা বা তার বেশি হলে ই-টিআইএন থাকতে হবে।
বেসরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে আরও কঠোর হয়েছে এনবিআর। এবারের বাজেটে নতুন করে আইন করা হয়েছে যে, করযোগ্য হোক বা না হোক; চাকরিজীবী হলেই ই-টিআইএন নিতে হবে। তবে একটু ঘুরিয়ে বলা হয়েছে, উৎপাদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শ্রমিক ছাড়া যেকোনো কোম্পানির বেতনভুক্ত কর্মীর ই-টিআইএন থাকতে হবে। শ্রমিক ছাড়া সাধারণত একটি প্রতিষ্ঠানে ব্যবস্থাপনা, প্রশাসনিক ও তদারকি পর্যায়ে বিভিন্ন পদমর্যাদার বহু বেতনভুক্ত কর্মী থাকেন।
বেতনভুক্ত কোনো কর্মীর ই-টিআইএন না থাকলে ওই সব কোম্পানির ওপর খড়্গ পড়বে। কারণ আয়কর অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, কোনো বেতনভুক্ত কর্মীর ই-টিআইএন না থাকলে ওই কর্মীকে যে বেতন দেওয়া হবে, তা কোম্পানির বেতন খাতে খরচ হিসেবে দেখানো যাবে না।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

sixteen − seven =