নিউ সোয়াজদীর নতুন কায়দায় ফাঁকি

অভিযান হল ৩ নিউ বেইলী রোডের নিউ সোয়াজদী রেস্টুরেন্ট এ। এটি একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্ট। গোপন সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটি প্রকৃত সেবা বিক্রয় তথ্য গোপন করে মূসক ফাঁকি দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে।

প্রতিষ্ঠানটিতে উপস্থিত হয়ে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা দেখতে পান প্রতিষ্ঠানটিতে ECR/POS সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয় না,যেটি বাধ্যতামূলক। ECR/POS নেই কেন- এই প্রশ্নের উত্তরে তারা বলেন প্রতিষ্ঠান নতুন বলে তারা নাকি এখনও এসব ব্যবহার করেন না। মূসক নিবন্ধনপত্রটিও কেন দর্শণীয়স্থানে ঝুলানো নেই, এই প্রশ্নেরও তারা কোন সদুত্তর দিতে পারেননি ।

ECR/POS সফটওয়্যারের অনুপস্থিতির কারণে মূসক সংক্রান্ত দলিলাদি দেখতে চাইলে প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার ডিসেম্বর/১৫ থেকে আগস্ট/১৬ পর্যন্ত সময়ের দাখিলপত্র ও একটি বিক্রয় হিসাব পুস্তক কর্মকর্তাদের দেন। কিন্তু যখনই বিক্রয় তথ্যের সমর্থনে মূসক-১১ চালান দেখতে চাওয়া হল, তখন তারা সেগুলো দেখাতে পারলেন না।

অগত্যা দু’দলে ভাগ হয়ে শুরু হল তল্লাশি দোতলা ও তিনতলায়। কর্মচারীদের থাকার জায়গা, ওয়াশ রূম, ময়লার ঝুড়ি কোথাও থেকেই কিছু মিলল না। তল্লাশি চলাকালীন গোয়েন্দাদের একটি দল দোতলায় ক্যাশ কাউন্টারে গিয়ে ড্রয়ারের চাবি চাইলে তারা কয়েকটি চাবি দিয়ে বলে বাকি ড্রয়ার গুলোর চাবি দেয়া যাবে না। কারণ সেগুলো অফিসে থাকে না, থাকে মালিকের কাছে। একই কথা তারা তিনতলার ড্রয়ারগুলোর ক্ষেত্রেও জানাল।

অতঃপর প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিদের সহায়তায় বিশেষ কায়দায় সেই ড্রয়ার গুলো খোলা হল। আর সেখান থেকেই উদ্ধার হল মূসক সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় দলিলাদি।
উদ্ধার করে আনা দলিলপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেল, তাদের রেস্টুরেন্ট সেবা এবং বাড়ি ভাড়ার উপর ফাঁকি দেয়া মোট রাজস্বের পরিমাণ ২৭ লক্ষ ৭৩ হাজার ৩২৮ টাকা এবং সুদসহ ৩১ লক্ষ ৬৪ হাজার ৬১২ টাকা।

রাজস্ব দেশ গড়তে সাহায্য করে । উন্নত দেশ উন্নত নাগরিক জীবন দেয়। তাই আসুন আমরা মূসক ফাঁকি না দিয়ে দেশ গড়ার অংশীদার হই।

“ভ্যাট ফাঁকি রোধে সদা জাগ্রত ভ্যাট গোয়েন্দা”

www.facebook.com/vatintelligencebd

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

eighteen + five =