ঘরোয়া পরিবেশে খাইয়ে ভ্যাটের টাকা নিজের ঘরে

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, জনসন রোডে অবস্থিত প্রায় একই রকম নামের দুইটি রেস্টুরেন্ট নিউ ঘরোয়া হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট ও মতিঝিল ঘরোয়া হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ ক্রেতার নিকট থেকে ভ্যাট সংগ্রহ করে সরকারী কোষাগারে জমা না দিয়ে নিজের পকেট ভারী করছেন। অভিযোগের সত্যতা প্রমানে গোয়েন্দা দল প্রতিষ্ঠান দুটিতে একই সঙ্গে উপস্থিত হন। উপস্থিত হয়েই গোয়েন্দা দল লুক্কায়িত বাণিজ্যিক দলিলের স্থান সন্ধান করতে লেগে পড়ে। গোয়েন্দা দল দেখতে পান যে উভয় প্রতিষ্ঠানই ইসিআর মেশিন ব্যবহার না করে ব্যক্তিগত চালান (রশিদ) ব্যবহার করছেন।

উভয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের নিকট গোয়েন্দা দলের দলনেতা পরিচয় প্রদান পূর্বক মূসক সংক্রান্ত দলিলাদি দেখতে চান। প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ কর্মকর্তাগণকে জানান যে মূসক সংক্রান্ত দলিলাদি বাসায় আছে। এ পর্যায়ে কর্মকর্তাগণ প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের নিকট ইসিআর ব্যবহার না করে ব্যক্তিগত চালান ব্যবহার করার কারণ জানতে চাইলে তিনি জানান যে, ইসিআর মেশিন নষ্ট। ইসিআর মেশিন নষ্ট থাকার বিষয়টি স্থানীয় মূসক কার্যালয়কে অবহিত করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তারা সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি। তবে কাস্টমার চাইলে মূসক-১১ চালান প্রদান করা হয়। এতে কর্মকর্তাগণের নিকট সন্দেহ হয় যে, প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ প্রকৃত সেবামূল্য গোপণ করে সরকারকে প্রকৃত রাজস্ব প্রাপ্তি হতে বঞ্চিত করে যাচ্ছেন ।

এমতাবস্থায় দলনেতা গোয়েন্দা দলকে দু’ভাগে বিভক্ত করে রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ কে সাথে নিয়ে প্রকৃত সেবা বিক্রয় তথ্য উদ্ধারের লক্ষ্যে রেস্টুরেন্টের বিভিন্ন স্থানে তল্লাশী শুরু করেন এবং তল্লাশীর এক পর্যায়ে রেস্টুরেন্ট দুটির অফিস রুমে ঢুকে দেখতে পান সেখানে কিছু বাণিজ্যিক দলিল রয়েছে। এই সকল বাণিজ্যিক দলিলের মধ্যে প্রাপ্ত দৈনিক বিক্রয় বিবরণী ও টালিখাতার হিসাব তৎক্ষনাৎ পর্যালোচনা করে দেখতে পান যে, রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ প্রতিদিনের বিক্রয় টালিখাতায় তারিখ ভিত্তিক লিপিবদ্ধ করে সংরক্ষণ করে রাখেন। কর্মকর্তাগণ এই হিসাব অফিস কক্ষে প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় হিসাব পুস্তক এর সাথে তুলনা করে ব্যাপক পার্থক্য দেখতে পান । এতে কর্মকর্তাগণের নিকট প্রতীয়মান হয় যে, রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ বিপুল পরিমান সেবা বিক্রির তথ্য গোপন করে নামমাত্র সেবামূল্যের বিপরীতে মূসক প্রদান করে আসছে।

এ কারণে মূসক সংক্রান্ত সঠিক করদায়িতা নিরুপণের লক্ষ্যে উদ্ধারকৃত দলিলাদি জব্দ করেন। প্রতিষ্ঠানের উদ্ধারকৃত/জব্দকৃত দলিলাদি অফিসে আনার পর কর্মকর্তাগণ পর্যালোচনা করে দেখতে পান যে, রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ নিজস্ব ব্যক্তিগত স্লিপ এর মাধ্যমে সেবামূল্য গ্রহণ করে তার হিসাব নিজস্ব বিক্রয় বিক্রয় বিবরণীতে লিপিবদ্ধ করে সমন্বিত আকারে তারিখ ভিত্তিক টালি খাতায় লিপিবদ্ধ করে সংরক্ষণ করা হচ্ছে । এই টালি খাতার হিসাব মাস ভিত্তিক বিক্রয় হিসাব ও মূসক পুস্তক এর বিক্রয় তথ্যের সাথে তুলনা করে প্রতিষ্ঠান দুটির ফাঁকিকৃত মূসক এর পরিমান নির্ণয় করা হয়।

নিউ ঘরোয়া হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট এর ফাঁকিকৃত মূসক বাবদ ১,৫৭,৮০,৮৭১ টাকা এবং সুদ বাবদ ১,২৩,২৭,৬৬৯ টাকা অর্থাৎ সর্বমোট সুদসহ (১,৫৭,৮০,৮৭১ + ১,২৩,২৭,৬৬৯) = ২,৮১,০৮,৫৪০ (দুই কোটি একাশি লক্ষ আট হাজার পাঁচশত চল্লিশ) টাকা ফাঁকি উদঘাটিত হয়েছে।

মতিঝিল ঘরোয়া হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট এর ফাঁকিকৃত মূসক বাবদ ৫১,৪৬,২২২ টাকা নিরুপিত সুদ বাবদ ৫,০১,০৮৪ টাকা অর্থাৎ সর্বমোট সুদসহ (৫১,৪৬,২২২+ ৫,০১,০৮৪) = ৫৬,৪৭,৩০৬ (ছাপান্ন লক্ষ সাতচল্লিশ হাজার তিনশত ছয়) টাকা ফাঁকি উদঘাটিত হয়েছে।

মূসক ফাঁকির প্রবণতা পরিহার করে যথাযথ মূসক দিন, দেশ গড়ায় অংশ নিন।

“ভ্যাট ফাঁকি রোধে সদা জাগ্রত ভ্যাট গোয়েন্দা”

www.facebook.com/vatintelligencebd

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

9 − two =