এয়ারপোর্ট রেস্টুরেন্ট এ ঝটিকা অভিযান

লোভনীয় সব পদের রান্না, জমজমাট আয়োজন, খাওয়া দাওয়া চলছে এমন দুপুরে ভ্যাট গোয়েন্দা দল উপস্থিত হল শাহজালাল বিমান বন্দরের এয়ারপোর্ট রেস্টুরেন্টে । বলাই বাহুল্য গোয়েন্দারা সেখানে খেতে নয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তদন্ত করতে গিয়েছিল। এয়ারপোর্ট রেস্টুরেন্ট নামেই এটি সমাধিক পরিচিত হলেও এটি এম আর এন্টারপ্রাইজ নামে নিবন্ধিত। টেন্ডারের মাধ্যমে তিনি, মে/১৬ থেকে এর মালিকানা লাভ করেছেন।

প্রতিষ্ঠানটিতে উপস্থিত হয়েই গোয়েন্দা দল কয়েকটি ভাগে ভাগ হয়ে গোপনীয়তা রক্ষা করে বাণিজ্যিক দলিলাদির সন্ধান করতে থাকেন। উপস্থিত হয়েই দেখা গেল ইসিআর মেশিনটি নীরবে এক কোনে নষ্ট অবস্থায় পরে আছে।

ইসিআর মেশিনটি থাকার পরও কেন সেটি ব্যবহার করেন না, এই প্রশ্নের কোন জবাব জেনারেল ম্যানেজার দিতে পারেননি। প্রতিষ্ঠানের দাখিলপত্র দেখতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, এ সংক্রান্ত কাগজপত্র মালিকের বাসায় আছে, পরে আমাদের অফিসে পৌঁছে দেবেন।

এরপর গোয়েন্দারা অফিস কক্ষে ভ্যাট ফাঁকি সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের জন্য খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। সেখান থেকে পাওয়া গেল কয়েকটি বিক্রয় রেজিস্টার, সেবা বিক্রয় চালানের কপি এবং কয়েকটি ফাইল।

গোয়েন্দাদের আরেকটি দল স্টোর রুমের দিকে গিয়ে দেখেন সেখানে দুটো স্টোর রুমের একটি খোলা এবং অপরটি তালা দেওয়া । প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে তালা খোলার পর তল্লাশী চালিয়ে চাল, ডালের বস্তার মধ্য থেকে দুই বস্তা বিক্রয় চালান উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার করে আনা দলিলাদি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এই ক’মাসে তাদের ফাঁকিকৃত ভ্যাটের পরিমাণ, ২৫ লক্ষ ৭৮ হাজার ৬৩ টাকা এবং সুদসহ ২৬ লক্ষ ৬০ হাজার ৪১৭ টাকা।

প্রতিষ্ঠানের শুরু থেকেই “ভ্যাট ফাঁকি দেব”, এই মানসিকতা না রেখে যদি প্রতিষ্ঠানের শুরুর দিন থেকেই “ যথাযথ ভ্যাট প্রদান করব”, এই মানসিকতা ধারণ করা হয় তাহলে আর ফাঁকি দেওয়া ভ্যাটের উপর “সুদের খেসারত ” গুণতে হয়না। ভ্যাট দিন, নিশ্চিন্তে থাকুন। দেশ গড়ায় অংশ নিন।

“ভ্যাট ফাঁকি রোধে সদাজাগ্রত ভ্যাট গোয়েন্দা”

www.facebook.com/vatintelligencebd

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

nineteen + 15 =