আয় না থাকলেও যাঁদের রিটার্ন দিতে হবে

বছরে আড়াই লাখ টাকার বেশি আয় হলে বার্ষিক আয়কর বিবরণী বা রিটার্ন জমা দিতে হয়—এটা সবারই কমবেশি জানা আছে। কিন্তু আড়াই লাখ টাকার কম আয় হলেও কয়েক শ্রেণির পেশাজীবীকে অবশ্যই বিবরণী বা রিটার্ন জমা দিতে হবে। গাড়ির মালিক হলেও যেমন রিটার্ন জমা দিতে হবে; আবার তেমনি ঢাকা ক্লাব, গুলশান ক্লাব, উত্তরা ক্লাবের মতো অভিজাত ক্লাবের সদস্য হলেও বাধ্যতামূলক রিটার্ন দিতে হবে। এ ছাড়া চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী, হিসাববিদদের মতো পেশাজীবীদের করযোগ্য আয় না থাকলেও এনবিআরকে আয়-ব্যয় বিবরণী জানাতে হবে। সব মিলিয়ে পেশাজীবী, ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা, ঠিকাদার, জনপ্রতিনিধি, সরকারি চাকরিজীবীর মতো ২০ ধরনের করদাতার রিটার্ন জমা বাধ্যতামূলক।

আয়কর অধ্যাদেশেই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার করদাতার রিটার্ন জমা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিভিন্ন সময় বাজেটে অধ্যাদেশ সংশোধনের মাধ্যমে এই তালিকা হালনাগাদ করা হয়েছে। সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এ বছর ২০ শ্রেণির পেশাজীবীর জন্য রিটার্ন জমা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রকাশিত রিটার্ন ফরম পূরণের নির্দেশিকায় তা উল্লেখ রয়েছে।

এনবিআরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, এই ২০ শ্রেণির পেশাজীবী সাধারণত করযোগ্য আয় করেন। তবে যাঁদের আয় নেই, তাঁরা আয়-ব্যয়ের ধারাবাহিকতা রক্ষায় রিটার্ন দেবেন। আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত রিটার্ন দেওয়া যাবে।

কারা দেবেন: কোনো কোম্পানির শেয়ারধারী পরিচালক কিংবা শেয়ারধারী কর্মী হলে রিটার্ন দিতে হবে। এ ছাড়া কোনো ফার্মের অংশীদারেরাও এর আওতায় থাকবেন। কোনো শিল্পগোষ্ঠীর পরিচালকদেরও রিটার্ন জমা বাধ্যতামূলক করেছে এনবিআর।

সরকারি চাকরি করেন কিংবা সরকারি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কোনো চাকরিজীবীর বেতন-ভাতা যদি ১৬ হাজারের বেশি হয়, কিন্তু করযোগ্য আয় নেই; তাঁদেরও বাধ্যতামূলক রিটার্ন জমা দিতে হবে। এর ফলে নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী দ্বিতীয় শ্রেণির অনেক কর্মকর্তা করের জালের আওতায় পড়বেন।

সন্তানদের স্কুল, নিজের এবং স্ত্রীর অফিস, বাজারসদাই করা—এসব জায়গায় একটু আরামে যাতায়াতের জন্য গাড়ি কিনেছেন। সংসারের প্রয়োজনেই এই গাড়ি কিনেছেন। হয়তো আপনার করযোগ্য আয় নেই। কিংবা চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর গাড়ি কিনেছেন। তবু আপনাকে বছর শেষে রিটার্ন দিতে হবে।

মূল্য সংযোজন কর (মূসক) আইনের আওতায় নিবন্ধিত কোনো ক্লাবের সদস্য হলেও আপনার রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। এর ফলে ঢাকা ক্লাব, গুলশান ক্লাব, উত্তরা ক্লাবসহ দেশের অভিজাত ক্লাবের শত শত সদস্য বাধ্যতামূলকের রিটার্ন জমার আওতায় আছেন।

স্বীকৃত বেশ কিছু পেশাজীবী সংগঠনের নিবন্ধন থাকলেও বার্ষিক আয়-ব্যয়ের বা আয়কর বিবরণী জমা দিতে হবে। এ ধরনের পেশাজীবীর তালিকায় আছেন আইনজীবী, চিকিৎসক, দন্ত চিকিৎসক, প্রকৌশলী, স্থপতি, সনদধারী হিসাববিদ, কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউনট্যান্ট ও সার্ভেয়ার। এ ছাড়া এনবিআরে নিবন্ধন নেওয়া আয়কর আইনজীবীদেরও আয়-ব্যয়ের বিবরণী জমা দিতে হবে। জাতীয় পর্যায়ের পাশাপাশি বিভিন্ন জেলায় চেম্বার ও বণিক সমিতির সদস্যদের ব্যবসা না হলেও বছর শেষে আয়কর অফিসে যেতে হবে। সারা বছরের আয়-ব্যয়ের বিবরণী জমা দিতে হবে।

সিটি করপোরেশন, পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা করছেন, বছর শেষে কিন্তু রিটার্ন দিতে হবে। ইউনিয়ন পরিষদ বা গ্রামগঞ্জে যে ব্যবসাই করেন না কেন, ট্রেড লাইসেন্স নিতে হয়। করযোগ্য আয় না থাকলেও তাঁরা এখন রিটার্ন জমা দেবেন। এমনকি সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা কিংবা স্থানীয় সরকার পর্যায়ের ঠিকাদারেরা যদি সারা বছর কোনো কাজ নাও করেন, তবু তাদের জন্য রিটার্ন জমা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

এ ছাড়া ইউনিয়ন পরিষদ ছাড়া যেকোনো জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে পদপ্রার্থীদের রিটার্ন জমার অনুলিপি নির্বাচন কমিশনে জমা দিতে হয়। তাই সামনের নির্বাচনে যাঁরা প্রার্থী হতে চান, তাঁরা এখন থেকেই রিটার্ন জমা দিন।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

4 × 1 =