আয়কর দাখিলে কিভাবে পেতে পারেন বিনিয়োগজনিত কর রেয়াত

নির্দিষ্ট কয়েকটি খাতে করদাতার বিনিয়োগ/চাঁদা থাকলে করদাতা বিনিয়োগজনিত কর রেয়াত পান। মোট আয়ের উপর আরোপযোগ্য আয়করের অংক থেকে কর রেয়াতের অংক বাদ দিলে প্রদেয় করের অংক পাওয়া যায়।
একজন করদাতার বিনিয়োগজনিত কর রেয়াত পরিগণনার ক্ষেত্রে নিম্নরূপ ২টি বিষয় বিবেচিত হয়:
(ক) করদাতার মোট আয়;
(খ) রেয়াতের জন্য অনুমোদনযোগ্য অংক (eligible amount);

রেয়াতের জন্য অনুমোদনযোগ্য অংক (eligible amount) হবে-
(ক) রেয়াত পাওয়ার যোগ্য খাতে করদাতার প্রকৃত বিনিয়োগ/চাঁদার পরিমাণ;
(খ) করযোগ্য মোট আয়ের (৮২সি ধারার (২) উপ-ধারায় বর্ণিত উৎস/উৎসসমূহ হতে প্রাপ্ত আয় এবং কর অব্যাহতি প্রাপ্ত বা হ্রাসকৃত করহার প্রযোজ্য এমন আয় থাকলে তা ব্যতীত) ২৫%;
(গ) ১ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা;
এই তিনটির মধ্যে যেটি কম।
মোট আয় ও অনুমোদনযোগ্য অংক (eligible amount) এর ভিত্তিতে আয়কর রেয়াতের পরিমাণ নিম্নরূপ হারে নির্ধারিত হবে:

১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত রেয়াতের পরিমাণ: অনুমোদনযোগ্য অংকের ১৫%

১০ লক্ষ টাকার অধিক কিন্তু ৩০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত রেয়াতের পরিমাণ- (ক) অনুমোদনযোগ্য অংকের প্রথম ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত রেয়াতের পরিমাণ ১৫% এবং (খ) অনুমোদনযোগ্য অংকের অবশিষ্ট অংশের ১২%।

৩০ লক্ষ টাকার অধিক হলে রেয়াতের পরিমাণ, (ক) অনুমোদনযোগ্য অংকের প্রথম ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার ১৫%, (খ) অনুমোদনযাগ্য অংকের পরবর্তী ৫ লক্ষ টাকার ১২% এবং (গ) অনুমোদনযোগ্য অংকের অবশিষ্ট অংশের ১০%।

বিনিয়োগ জনিত রেয়াত দাবির জন্য পৃথক তফসিল রয়েছে। নতুন রিটার্ন ফরমে তফসিলটি ২৪ডি নামে চির্হিৃত। নতুন রিটার্ন দাখিলকারী করদাতা বিনিয়োগ দাবী করলে রেয়াত পাওয়ার যোগ্য বিনিয়োগ বা দান প্রবর্তিত তফসিল-২৪ডি এ উলে¬খপূর্বক মূল রির্টানের সাথে সংযুক্ত করতে হবে এবং বিনিয়োগ বা দানের প্রমাণপত্র রির্টানের সাথে দাখিল করতে হবে।

কর রেয়াতের যোগ্য বিনিয়োগ/দানের খাত
একজন করদাতার বিনিয়োগ ও দানের উল্লেযোগ্য খাতগুলোর তালিকা নিচে দেয়া হলো:
 জীবন বীমার প্রিমিয়াম;
 সরকারী কর্মকর্তার প্রভিডেন্ট ফান্ডে চাঁদা;
 স্বীকৃত ভবিষৎ তহবিলে নিয়োগকর্তা ও কর্মকর্তার চাঁদা;
 কল্যাণ তহবিল ও গোষ্ঠী বীমা তহবিলে চাঁদা;
 সুপার এনুয়েশন ফান্ডে প্রদত্ত চাঁদা;
 যে কোন তফসিলি ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ডিপোজিট পেনশন স্কীমে বার্ষিক সব্বোর্চ ৬০,০০০/-টাকা বিনিয়োগ;
 সঞ্চয়পত্র ক্রয়ে বিনিয়োগ;
 বাংলাদেশের ষ্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভূক্ত কোম্পানীর শেয়ার, স্টক, মিউচ্যুয়াল ফান্ড বা ডিবেঞ্জারে বিনিয়োগ;
 বাংলাদেশের সরকার অনুমোদিত ট্রেজারী বন্ডে বিনিয়োগ;
 নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে একটি কম্পিউটার বা ল্যাপটপ ক্রয়ে বিনিয়োগ।
 জাতির জনকের স্মৃতি রক্ষার্থে নিয়োজিত জাতীয় পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানের অনুদান।
 যাকাত তহবিলে দান;
 জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্র্তৃক অনুমোদিত কোন দাতব্য হাসপাতালে দান;
 প্রতিবন্ধীদের কল্যাণে স্থাপিত প্রতিষ্ঠানে দান;
 মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরে প্রদত্ত দান;
 আগা খান ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্কে দান;
 আহসানিয়া ক্যান্সার হাসপাতালে দান;
 ওঈউউজই তে প্রদত্ত দান;
 ঈজচ,সাভার এ প্রদত্ত দান;
 সরকার কর্তৃক অনুমোদিত জনকল্যাণমূলক বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দান;
 এশিয়াটিক সোসাইটি, বাংলাদেশ এ দান;
 ঢাকা আহসানিয়া মিশন ক্যান্সার হাসপাতালে দান;
 মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি রক্ষার্থে নিয়োজিত জাতীয় পর্যায়ের কোন প্রতিষ্ঠানে অনুদান;

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

four × 4 =