আমরা ষোল কোটি মানুষ যদি দিনে সরকারের কাছে দিনে একটাকাও দিতে পারি, সেটার পরিমান কিন্তু ষোল কোটি টাকা।

এখন ভ্যাট নিয়ে অনেক আলাপ হচ্ছে। এই বেলা একটা তথ্য দেই। একটি হিসেব মতে ঢাকা শহরে দৈনিক ভ্যাটযোগ্য যত পণ্য বিক্রি হয় তাঁর থেকে ভ্যাটবাবদ সরকারের দৈনিক আয় নাকি প্রায় ১৫০ কোটি টাকা। এর ভেতরে রেস্টুরেন্ট, সুপার মল, শপ, সব কিছুই আছে। মজার ব্যাপার হলো, সরকার এই টাকার খুব নগন্য অংশই তাঁর কোষাগারে নিতে পারে। ব্যবসায়ীরা এই চুরিটাকে জায়েজ বলেই মনে করেন। এই প্রতারণার দায় কিন্তু আমরা যারা কনজুমার তাদের নয়। কারন ব্যবসায়ীরা কিন্তু আমাদের কাছ থেকে ভ্যাট কেটেই রাখছেন। এটা সরকারের কাছে যাচ্ছে না কেন সেটা বলি। অনেক দোকানে বিশেষ করে কেএফসি, পিজা হাট টাইপেরগুলোতে আজকাল একটি নতুন ফ্যাশান হয়েছে ইলেক্ট্রোনিক ক্যাশ রেজিস্টার (ইসিআর) লাগানো যাতে করে আপনার কাছে একটি ছাপানো ক্যাশমেমো চলে আসবে যেখানে ভ্যাট কত দিলেন তা লেখা থাকে। আপ্নিও সন্তুষ্ট মনে বাসায় এলেন এই ভেবে যে আপনার দেয়া ভ্যাটের টাকাটা দোকানদার মেরে দেয়নি। ভূল। এই ইসিআর আসলে বর্তমানে একটি ভাউচার প্রিন্টার ছাড়া কিছুই নয়। পশ্চিমা দেশে সকল ইসিআর একটি অনলাইন নেটওয়ার্ক দ্বারা সংযুক্ত যার ফলে ইসিআরে যা প্রিন্ট হবে ভ্যাটের সেই টাকা সরকারের খাতায় লিপিবদ্ধ হয়ে যাবে। এবং সরকার তা আদায় করতে পারবে। আমাদের এখানে সেটা নেই। বিকল্প হিসেবে আমাদের এখানে যেসব দোকানে ভ্যাটযোগ্য পণ্য বা সেবা বিক্রি করা হয় তাদের কাছে এনবিআর একটি ভ্যাট চালান বই দিয়ে দেয়। কনজুমার পণ্য বা সেবা ক্রয় করার পর ছবির মতো একটি চালান পাবার অধিকারী হন। এই চালান পেলেই তিনি দাবী করতে পারেন যে সরকারের ঘরে তাঁর দেয়া করের টাকা পৌঁছেছে। আর নইলে তিনি প্রতারিত, দেশ বঞ্চিত। তাঁর মনে কষ্ট হতেই পারে, এত এতো ট্যাক্স দেই সেগুলো যায় কই? দোকানদারেরা এই ভ্যাটচালানের ফরম দিতে চান না, এই নাই সেই নাই, বই শেষ হয়ে গেছে ইত্যাদি বাহানা করেন। কিন্তু আপনি যদি শুরুতেই বলে দেন আপনি তাঁর পণ্যটি কিনবেন তবে আপনাকে এনবিআর এর ভ্যাট চালান দিতে হবে তবে আশা করি দোকানদার মশাই একবার ভেবে দেখবেন। একটা বিষয় ভেবে দেখুন, আপনি চান বা না চান ভ্যাট কিন্তু আপনার পকেট থেকে চলেই যাচ্ছে। সেটা একটা লোভী, অদেশপ্রেমিক ব্যবসায়ীর পকেটে যাবার চেয়ে যদি সরকারের কাছে আসে তাহলে সরকারের সক্ষমতা বাড়ে। আর সরকারের সক্ষমতা বাড়লে সেটা সামাজিক সুবিধা হয়ে রাস্তা, ব্রিজ, বয়স্কভাতা, বিধবাভাতা ইত্যাদি হিসেবে আমার আপনার কাছেই ফেরত আসবে। চেনার সুবিধার জন্য ফরমের একটি ছবি দিয়ে দিলাম। শেয়ার করুন, দেশের জন্য কিছু করতে চাইলে একটু ইচ্ছাই যথেষ্ট। আমরা ষোল কোটি মানুষ যদি দিনে সরকারের কাছে দিনে একটাকাও দিতে পারি, সেটার পরিমান কিন্তু ষোল কোটি টাকা। কেউ কেউ হয়তো গলার রগ ফুলিয়ে বলবেন, সরকারতো প্রতারনা করে। আমি বলবো, তা হয়তো করে কিন্তু সরকারতো এক ব্যক্তি না। সরকারের মধ্যে ভালো লোক মন্দ লোক দুইই আছে। যেমন আমাদের মধ্যেও আছে। ভালো লোকের কাছে আমাদের জমা দেয়া টাকা পড়লে তিনি আমাদের ভালো করবেন। এখন মন্দের হাতে পড়বে আশংকা করে যদি ভালো লোকটিকেও আমরা অক্ষম করে রাখি তাহলে আখেরে কার লাভ। যে চোর, সে আপনি না দিলেও চুরি করবে।

মোহাম্মদ সোলায়মান

( Mohammad Solaiman)

উপ-পরিচালক গর্ভনেন্স ইনোভেশন ইউনিট

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

eighteen − 16 =